অন্য রাস্তা তৈরির প্রকল্পের টাকা দিয়ে নিজের বোনের বাড়ির রাস্তা তৈরি করলেন চেয়ারম্যান

0
131

দুই বছর আগেই রাস্তাটির উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছিল জেলা পরিষদ থেকে। তবে সেই রাস্তা না করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির চাচাতো বোনের বাড়ির সামনের রাস্তা করে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা ব্যাপারটি জানার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে সেই প্রস্তাবিত রাস্তার উন্নয়নে আবারও টেন্ডার

আহ্বান করা হয়েছে। এমন তুঘলকি কর্মকাণ্ড ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে। যার চেয়ারম্যান সেই আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা মালার নিজস্ব বরাদ্দের তহবিল থেকে বন্দর

উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কল্যান্দী গ্রামের বাঁশ ঝাড়তলা ব্রিজ থেকে সর্দারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব করা হলে টেন্ডারে সেটির নাম উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই রাস্তাটি না করে উল্টো টেন্ডার ছাড়াই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বোনের বাড়ির সামনের

একটি রাস্তা উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে ব্যাপারটি স্বীকার করলেও জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার পালিত অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন।

তিনি জানান, টেন্ডারে ভুল করে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কল্যান্দী গ্রামের বাঁশ ঝাড়তলা ব্রিজ
থেকে সর্দার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার নাম না উঠে পাশের রাস্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও প্রকৌশলী পালিতের এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি মিলেনি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বোনের বাড়ির সেই রাস্তা উন্নয়নের আগে টেন্ডার দেয়া হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে কোনো
জবাব না দিয়ে প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত জানান, কল্যান্দী বাঁশ ঝাড়তলা ব্রিজ থেকে সর্দারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নে নতুন করে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। কয়েক দিন পরেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।তবে যুগান্তরের অনুসন্ধানে মিলেছে অন্য তথ্য। সংরক্ষিত সদস্য মাহামুদা মালা স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাবপত্র এসেছে যুগান্তরের হাতে।

সেখানে দেখা গেছে, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা মালা নারায়ণগঞ্জের ২০১৮ সালের ১৩ মে তার নামে

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বরাদ্দের ২০ লাখ টাকার মধ্যে থেকে ৪ লাখ টাকায় কল্যান্দী বাঁশ ঝাড়তলা ব্রিজ থেকে সর্দারবাড়ি রাস্তার জন্য বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে একটি প্রস্তাবপত্র দেন।

সেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য ও প্রকল্পটির প্রস্তাবকারী মাহমুদা মালা বলেন, আমি যে রাস্তার কাজের জন্য আবেদন করেছিলাম সেটা গত ২ বছরেও উন্নয়ন হয়নি। ফলে আমি এলাকার মানুষের সামনে গিয়ে মুখ দেখাতে পারছি না। ব্যাপারটি লজ্জার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সেই রাস্তা না করে, বোনের বাড়িতে যাওয়ার অন্য একটি রাস্তা ঢালাই করে দিয়েছেন। যদিও সেই রাস্তা উন্নয়নের কোনো টেন্ডারই হয়নি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, ব্যাপারটি আমার জানা নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বোনের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা অনেক আগেই করা হয়েছে। আর কল্যান্দী বাঁশ ঝাড়তলা ব্রিজ থেকে সর্দারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিও করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here